‘এক গাভির বাছুর অন্য গাভির নিচে’ | তদন্ত রিপোর্ট

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৯ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে।

‘এক গাভির বাছুর অন্য গাভির নিচে’

‘এক গাভির বাছুর অন্য গাভির নিচে’

★ দালালদের নিয়ন্ত্রণে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম
★ দালালদের নিয়ন্ত্রণে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম

Manual4 Ad Code

তদন্ত রিপোর্ট : সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মহাফেজ খানার ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার নুরুল ইসলাম একজন মহা ক্ষমতাধর ও ঘুষখোর হিসেবে সর্বত্র আলোচিত ও সমালোচিত। দীর্ঘদিন থেকে সিলেট সদর মহাফেজ খানার রেকর্ড কিপার না থাকায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দূর্নীতিবাজ কর্মচারী নুরুল। গুনধর এই কর্মচারীর কারণে সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের মহাফেজখানায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালালের উপদ্রব দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দালাল চক্ররা তাদের অপকর্ম প্রকাশ্যে চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরব দর্শকের ভূমিকায়। ফলে মাস্টার রোল কর্মচারী ও দালালদের নিয়ন্ত্রনেই চলে সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কার্যক্রম।

অভিযোগ রয়েছে- ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার নুরুল ও সহকারী রেকর্ড কিপার সালেহ আহমদ মিলে রেকর্ড রুমের ভলিয়ম পাল্টাতে খুই পারদর্শী। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভলিয়ম খোলে ও পাতা সরিয়ে এই সিরিয়ালে ভূমিখেকো ও ভূমিদস্যু শ্রেণির মানুষের সৃষ্ট বেকডেইটের জাল দলিল ভলিয়মে প্রবেশ করে দিতে পারেন। ফলে ভূমিহারা হতে হয় প্রকৃত ক্রেতা ও দলিল গ্রহীতাদের।

Manual5 Ad Code

এছাড়া ঘষামাঝা ও টেম্পারিংয়েও তিনি খুবই সিদ্ধহস্ত। ভলিয়মে লিপিবদ্ধ দলিলের দাগ খতিয়ান ও মৌজা বদলে দিতে পারেন অতিসহজে। তিনি দীর্ঘ দিন থেকে এই অফিসে কর্মরত ও প্রভাবশালি কর্তাব্যক্তি হওয়ায় অধীনস্তরা তার বিরুদ্ধে মূখ খোলতে সাহস পান না। কেউ প্রতিবাদ করলে বা জালিয়াতির কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তার উপর নেমে আসে শাস্তির খড়গড়। ভূমির শ্রেণী বদলিয়ে কম টাকায় (ফি) জমির দলিল রেজিস্ট্রি করিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

শুধু তাই নয়, দলিলের সার্টিফাই নকল তুলতে হলে রেকর্ড কিপার নুরুল ও তার নিয়োগ প্রাপ্ত দালাল চক্রের চাহিদা মাফিক টাকা দিতে হয়। তা না হলে দলিল পাওয়া যায় না। প্রতি দলিলের জন্য ৫ হাজার করে দিতে হয় এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। কর্তৃপক্ষ বা বড়কর্তাকে ম্যানেজ করে আজীবন চাইলে বহাল থাকতে পরবেন একই অফিসের কর্মক্ষত্রে। এখানে চাকরিবিধি’র কোনো বালাই নেই। তাইতো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বছরকে-বছর আনলিমিটেড চাকরি করছেন।

সিলেট জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের অধিনে বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ব্যাপরোয়া হয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন অনিয়ম দুর্নীতি, টেম্পারিং জালিয়াতি ও ঘুষবাণিজ্য। জালিয়াতির মাধ্যমে অনায়াসে দিয়ে দিচ্ছেন ‘এক গাভির বাছুর অন্য গাভির নিচে’। হয়রানী ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনিয়মের মাধ্যমে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও বিত্তবৈভবের মালিক হয়ে যাচ্ছেন জেলা রেজিস্ট্রারের অধীন জেলার কয়েকটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

জেলা রেজিস্ট্রার অন্য সবাইকে বদলি করলেও অজানা কারণে ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার নুরুলকে বদলি বা স্থানান্তর করতে চান না এ অফিস থেকে। আর এ কারণেই অনিয়ম-জালিয়াতির কারখানায় পরিনত হয়ে পড়েছে সিলেট সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস এর রেকর্ড রুম। ফলে জনগনের ভূ-সম্পত্তির ডকুমেন্ট নিরাপদ নয় সিলেট সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে এমন আশংঙ্কা অনেকের। তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগের কোনো অন্তঃনেই।

Manual1 Ad Code

সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মহাফেজ খানার সহকারী রেকর্ড কিপার সালেহ আহমেদের সাথে আলাপ কালে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান- এগুলো কুৎসা রটানো হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

তবে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মহাফেজ খানার ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার নুরুল ইসলামের সাথে আলাপ কালে তিনি বিষয়টি গণমাধ্যমকে অস্বীকার করেন।

এদিকে সিলেট জেলা রেজিস্ট্রার মুহিবুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি নিয়ম ও বিধিবহির্ভুত ভাবে কয়েকজন কর্মচারী কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার কথা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান- অচিরেই তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

Add



© All rights reserved © tadantareport.com
Design BY Web WORK BD
ThemesBazar-Jowfhowo
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code